চট্টগ্রাম ভ্রমণ-

চট্টগ্রাম (Chattogram) পাহাড়,পর্বত ও সমুদ্রঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ জেলা। তাই চট্টগ্রাম জেলাকে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে ডাকা হয়। একই সঙ্গে পাহাড়, হ্রদ, বন ও সমুদ্র দেখতে চাইলে এই ঈদে আপনি ঘুরে আসতে পারেন চট্টগ্রাম। বাংলাদেশের প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম অন্যতম। কাজেই এখানে আপনি পুরোনো নিদর্শনের পাশাপাশি পাবেন আধুনিকতার ছোঁয়া। চট্টগ্রাম শহর এবং এর পাশের জায়গা, বিশেষ করে মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও ফটিকছড়িতে দেখতে পাবেন অনেক কিছু। পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলই আসলে দেখার মতো।

এক নজরে চট্টগ্রামের সকল পর্যটন কেন্দ্র

পাহাড়, সমুদ্রে এবং উপত্যকায় ঘেরা শহরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে বিখ্যাত। এই জেলার উল্লেখযোগ্য খাবার হল মেজবান ও শুটকি। পুরো জেলায় রয়েছে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। যারা চট্টগ্রামের অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে চান তাদের জন্য এই আয়োজন-

চালন্দা গিরিপথ

অ্যাডভেঞ্চার আর ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের ভ্রমণভাণ্ডারে এখন নতুন নাম চালন্দা গিরিপথ। তাইতো প্রতিদিনই দলবদ্ধ হয়ে নানান দল পাড়ি জমাচ্ছে এই নৈসর্গিক গিরিপথের দিকে।

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত 

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নদীর মোহনায় অবস্থিত। এটি মুরাদপুর বীচ নামেও পরিচিত। সীতাকুণ্ডের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে এটি অবস্থিত। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এটি অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর একদিকে দিগন্ত জোড়া জলরাশি, অন্যদিকে আছে কেওড়া বন। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল দেখা যায়। এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এর পরিবেশ সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত। সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে করেছে অন্যন্য। এই সবুজের মাঝ দিয়েে এঁকে বেঁকে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে উঠে। পাখি, ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই সমুদ্র সৈকতে।

বিবি মসজিদ

প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী সাহেব বিবি মসজিদ যা চট্টগ্রাম এর রাউজান উপজেলায় অবস্থিত।জানা যায়, জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর পত্নী ও চট্টগ্রামের আলোচিত প্রসিদ্ধ মালকা বানুর মাতা সাহেব বিবি এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা।

নন্দীরহাট জমিদার বাড়ি

জমিদার লক্ষীচরণ সাহার এই বাড়িটি নির্মাণ হয় ১৮৯০ সালে। ১৯৭৫ সালের মাঝমাঝিতে সত্য সাহা উনার প্রযোজনায় বাংলা ছবি ‘অশিক্ষিত’ নির্মাণ করেন – যার শুটিং হয় এই জমিদার বাড়িতে।

হাজারিখিল

চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে রামগড়-সীতাকুণ্ড বনাঞ্চল। এ বনাঞ্চলের মধ্যেই রয়েছে বিচিত্র সব বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হাজারিখিল, যেখানে আছে ১২৩ প্রজাতির পাখি। রঙ-বেরঙের এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন প্রায় কাঠময়ূর ও মথুরা। আছে কাউ ধনেশ ও হুতুম পেঁচাও। বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে চিরসবুজ এই বনে এমন কিছু প্রজাতির পাখি পাওয়া গেছে, যা অন্য কোনো বনে সচরাচর দেখা যায় না। এরমধ্যে রয়েছে হুদহুদ, চোখ গেল, নীলকান্ত, বেঘবৌ, আবাবিল। এসব পাখির আকার-আকৃতি, বর্ণ ও স্বভাবে বৈচিত্র্যময়।

বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার

এটি চট্টগ্রাম এর নাসিরাবাদের একটি পাহাড়ের উপরে অবস্থিত। ইরানের বিখ্যাত পার্সিয়ান সুফি বায়েজিদ বোস্তামীর নামে গড়ে উঠা।

ঝরঝরি ট্রেইল

সীতাকুণ্ড, মীরসরাই এর জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বলতে চন্দ্রনাথ পাহাড়, খৈয়াছড়া ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ট্রেইল, কমলদহ ঝরনা প্রভৃতি। এগুলোর বাহিরেও আরো বেশ কিছু ঝরনা, ট্রেইল রয়েছে যা খুব একটা পরিচিতি পায়নি। তেমনি একটা ট্রেইল হলো ঝরঝরি ট্রেইল।

ছাগলকান্দা ঝর্ণা

ছাগলকান্দা ঝরনার ট্রেইল মোটামুটি অপরিচিত একটা ট্রেইল। অসাধারন এই ট্রেইলে বড় কমলদহ ঝর্ণা আছে।

কুমারীকুন্ড

পৌরাণিক এক অঞ্চল সীতাকুন্ড। পাহাড়ের এদিকে সেদিক শত শত ছড়া। একেকটা ছড়ায় একেক বিস্ময় লুকিয়ে রাখা। তেমনি এক ছড়ায় খুঁজে পাওয়া গেলো রহস্যময় এক প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, কুমারীকুন্ড। চিপা ঝিরির ঝোপঝাড়ের ডালপালা ভেঙ্গে অনেকদূর যাবার পর হঠাৎ মাটি চাপা পড়া পুরোনো দিনের ইটের কাঠামো।

বাওয়াছড়া লেক

বাওয়াছড়া লেকটি মিরসরাই-এর ওয়াহেদপুর গ্রামের বারমাসি ছড়ার মুখে অবস্থিত বলে লেকটির নামকরণ করা হয়েছে বাওয়াছড়া লেক।টলটলে শান্ত পানির চুপচাপ বয়ে চলার ধরণই বলে দেবে এর উৎস অবশ্যই বিশাল কিছু থেকে। শেষ বিকেলের সূর্যের আলো যখন লেকে পড়ে তখন দূর থেকে মনে হয় পুরো প্রকল্পটি যে একটি পর্যটন কেন্দ্র।

লেক ভিউ আইল্যান্ড

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের পাড়ের ছোট ছোট টিলা ঘেরা একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পেই গড়ে তোলা হয়েছে লেক ভিউ আইল্যান্ড। পাশাপাশি দুটি টিলার চার একরের অধিক এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে পর্যটন এলাকাটি। এখানে তৈরি করা হয়ছে দৃষ্টিনন্দন কটেজ। নৌকা নিয়ে হ্রদের পানিতে ঘুরতে বের হলে চোখে পড়বে পাহাড়ি টিলার গায়ে বড় আকারের ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‌‘লেক ভিউ আইল্যান্ড’।

নাপিত্তাছড়া ট্রেইল

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ে অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। এখানে মূলত তিনটি ঝর্ণা রয়েছে ঝর্ণা। এগুলো হলো কুপিকাটাকুম, মিঠাছড়ি এবং বান্দরকুম বা বান্দরিছড়া। আর ঝর্ণাগুলোতে যাওয়ার যে ঝিরিপথ রয়েছে সেটাকে নাপিত্তাছড়া ট্রেইল বলে।

চন্দ্রনাথ পাহাড়  

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সীতাকুণ্ড উপজেলার পাহাড়বিশেষ। সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি। এলাকাটি শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় তীর্থস্থানই নয়; বরং খুব ভালো ভ্রমণের স্থান হিসেবেও স্বীকৃত।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। খৈয়াছড়া ঝর্ণার নয়টি ধাপ ও নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হচ্ছে… গহীন প্রকৃতির মাঝে সবার মধ্যমণি হয়ে বাস করেন এক রাণী। সবার থেকে আলাদা, সবার থেকে বড়, সবার থেকে সুন্দরী এই রাণীর নাম খৈয়াছড়া ঝরনা। বাংলাদেশের অন্যান্য ঝরনাগুলো থেকে আলাদা হওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীরা আদর করে একে ‘ঝরনা রাণী’ বলে ডাকে।খৈয়াছড়া ঝর্ণা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণাগুলোর মধ্যে অন্যতম। খৈয়াছড়া ঝর্ণার নয়টি ধাপ ও নান্দনিক সৌন্দর্য্য দেখে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হচ্ছে।

সন্দ্বীপ

বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা হাজার বছরের পুরনো দ্বীপটি সন্দ্বীপ নির্দিষ্ট কোন স্থান নয়-পুরো দ্বীপটিই দেখার মত। সাগর পেরিয়ে জনপদে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সবুজের সমারোহ, ম্যানগ্রোভ বন। বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, শামুক, ঝিনুক, প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সময় সুযোগ করে ঘুরে আসতে পারেন আপনিও। তবে সন্দ্বীপ ঘুরে দেখার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময় হলো শীতকাল। কারণ এ সময় এখানে পাওয়ায় যায় খেজুরের রস দিয়ে তৈরি পায়েস ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে আসেন একটু প্রশান্তির খোঁজে।

বাটালি হিল বাটালী হিল

চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উচু পাহাড়। এর উচ্চতা প্রায় ২৮০ ফুট। চট্টগ্রাম শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে টাইগারপাস এলাকায় বাটা. এই বাটালি হিল আবার ‘জিলাপি পাহাড়’ নামেও পরিচিত। এর কারণ হচ্ছে, পাহাড়ে উঠার বাটালি হিলের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠলে পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখা যায়।

খেজুরতলা বীচ

চট্রগ্রাম শহরে যে কয়টি সুন্দর সৈকত আছে, তারমধ্যে অন্যতম খেজুরতলা। এটির মূল সৌন্দর্য দেখতে হলে যেতে হবে খুব ভোরবেলা/পড়ন্ত বিকেলে।

মেধস মুনির আশ্রম

প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিরিবিলি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন – মেধস মুনির আশ্রমে। চন্দ্রনাথ এর মত মেধস মুনির আশ্রমও পাহাড়ের উপর অবস্থিত হিন্দুদের একটি জনপ্রিয় তীর্থ।

সীতাকুণ্ড ইকো পার্ক

সীতাকুন্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি। এ এলাকা শুধু হিন্দুদের বড় তীর্থস্থানই নয় খুব ভাল ভ্রমনের স্থানও বটে। সীতাকুন্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র। যে সকল ভ্রমনকারী প্রকৃতিকে ভালবাসেন প্রকৃতিকে খুব কাছের থেকে উপভোগ করতে চান তারা অবশ্যই সীতাকুন্ডে আসতে হবে

কুমিরা ঘাট, সীতাকুণ্ড

তীর থেকে সমুদ্রের অভ্যন্তরের দিকে ছুটে চলা দৃষ্টনন্দন এ জেটি ব্রীজের একেবারে পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছালে সমুদ্রের মাঝখানে আছেন বলে ভ্রম হবে। আকাশ পরিস্কার থাকলে সীতাকুণ্ডের সুউচ্চ পাহাড়গুলো এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা এক কথায় অসাধারণ। কুমিরা ব্রীজ থেকে বিশাল বিশাল জাহাজের সারি দৃষ্টি এড়াবেনা কিছুতেই।

সহস্রধারা ঝরনা

ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্ট ব্লকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুশোভিত চিরসবুজ বনাঞ্চলের সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে সহস্রধারা ঝর্ণাটি অবস্থিত। সারা বছর এই ঝর্ণায় অনেক কম পানি থাকলেও বর্ষাকালে সহস্রধারা ঝর্ণার পূর্ণরূপের দেখা মিলে। সহস্রধারা ঝর্ণার খুব কাছেই আছে সুপ্তধারা ঝর্ণা নামে আরো একটি জলপ্রপাত। তাই বর্ষায় এই ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী এসে ভীড় করেন সীতাকুণ্ড ইকোপারকে।।

ওয়ার সিনেমট্রি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সমাধিস্থল ওয়ার সিমেট্রি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট। কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের একটি সৌধ যেটি সাধারণভাবে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি নামে পরিচিত।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সমাধিস্থল ওয়ার সিমেট্রি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট। এটি চট্রগ্রামের মেহদীবাগ গোল পাহাড় এলাকায় অবস্থিত।

সোনাইছড়ি ট্রেইল

দুর্গম পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে একটি ট্রেইল জয় করা কতটা আনন্দের, তা হয়তো সোনাইছড়িতে গেলে ষোলো-আনা বোঝা যায়। পাহাড়-পর্বত, ঝরনা, বৈচিত্রময় প্রকৃতি—কী নেই এখানে! সীতাকুণ্ডের গহীন পাহাড়ে কী পরিমাণ রহস্য আর সৌন্দর্য যে লুকিয়ে আছে তা সেখানে না গেলে অজানাই রয়ে যাবে। এখানে যত পাহাড়ি ট্রেইল আছে তার মধ্যে সবচেয়ে দুর্গম, রহস্যময় এবং সুন্দর ট্রেইল হলো সোনাইছড়ি।

সুপ্তধারা ঝর্ণা

পার্বত্য চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চন্দ্রনাথ রির্জাভ ফরেস্টের চিরসবুজ বনাঞ্চলের ইকোপার্কে শোভাবর্ধন অনন্য প্রাকৃতিক সুপ্তধারা ঝর্ণা। সাধারণত বর্ষার মৌসুম ছাড়া সারাবছর এই ঝর্ণায় পানি বেশ কম থাকে। তবে বর্ষাকালে সুপ্তধারা ঝর্ণা নিজেকে পূর্ণরূপে মিলে ধরে।

ভাটিয়ারী লেক

চট্রগ্রাম সিটি গেট থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে ভাটিয়ারী লেক অবস্থিত। পাহাড়ের পাদদেশে জমে থাকা পানি থেকে সৃষ্ট রূপ বৈচিত্রে ভরপুর ভাটিয়ারী লেকের স্বচ্ছ পানি, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত গলফ কোর্স এবং ভাটিয়ারী সান সেট পয়েন্টে সূর্যাস্তের দৃশ্য মনকে ভাল লাগার মূর্ছনায় ভরিয়ে তোলে। ভাটিয়ারী লেকটি দেখতে অনেকটা সাপের মতো এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে। সূর্য্যের সোনালী আলো লেকের জলে প্রতিফলিত হয়ে যেন সোনার মত চকচক করে।

মহামায়া লেক

মহামায়া লেক চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মহামায়া লেক গড়ে উঠেছে। লেকের টলটলে পানি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। বোটে চড়ে লেকে ঘুরার পাশাপাশি চাইলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীর ও মনকে অপার্থিব প্রশান্তি দিতে পারেন। মহামায়া লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা এবং চাইলে তাবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতেও পারবেন। 

ফয়েজ লেক

ফয়েজ লেক চট্টগ্রামের পাহাড়তলি রেলস্টেশনের অদূরে খুলশী এলাকায় অবস্থিত একটি মানবসৃষ্ট হ্রদ। ফয়েজ লেক একটি চমৎকার বনভোজন ও বিনোদনের জায়গা যা হাজারো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

পারকি সমুদ্র সৈকত

পারকি সমুদ্র সৈকত বা পারকি সৈকত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রামের নেভাল একাডেমি কিংবা বিমানবন্দর এলাকা থেকে কর্ণফুলী নদী পেরোলেই পারকি চর পড়ে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতগুলোর মধ্যে একটি হলো পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। পতেঙ্গা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরের সমুদ্র সৈকত যা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।একদিকে ঝাউবনের সবুজের সমারোহ, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ নীল জলরাশির পাশাপাশি অপরূপ সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত মনকে আনন্দে পরিপূর্ণ করে দেয়।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান

১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোদালা চা বাগান বাংলাদেশের প্রথম এবং শীর্ষস্থানীয় চা বাগানের মধ্যে অন্যতম। সবুজ পাহাড় আর প্রাকৃতিক নিঃস্বর্গে সমৃদ্ধ চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া সদর উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোদালা ইউনিয়নে এই ঐতিহ্যবাহী কোদালা চা বাগানের অবস্থান। চা বাগানের পাশে দিয়ে রূপের মাধুরী ছড়িয়ে বয়ে গেছে লুসাই কন্যা কর্ণফুলী। 

কালুরঘাট ব্রিজ

চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ দিকে বহদ্দারহাট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কালুরঘাট ব্রিজ একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বহদ্দারহাটের কাছে স্থাপিত বেতার কেন্দ্রটি ঐতিহাসিক কালুরঘাট সেতুর কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং বেতার কেন্দ্রটিকে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষ থেকে মেজর জিয়াউর রহমান এই কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। বর্তমানে কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি বাংলাদেশ বেতারের একটি সম্প্রচার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মহামুনি বৌদ্ধ বিহার

চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী মহামুনি গ্রামে টিলার উপর মহামুনি বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত। ধারণা করা হয়, ১৮১৩ সালে চাইংগা ঠাকুর নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী/আদিবাসী/উপজাতি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৬৫ সালে চট্টগ্রাম জেলার আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার বাদামতলী মোড় সংলগ্ন দেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

সিআরবি শিরীষতলা

চট্টগ্রাম শহরের অতি প্রাচীনতম স্থাপনার নাম সি.আর.বি এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে ভবন। কালজয়ী ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিআরবি ভবন চট্টগ্রাম ঠিক তেমনি নাগরিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে সন্নিহিত এলাকায় আঁকা-বাঁকা, সর্পিল রাস্তা উঁচু নিচু পাহাড় টিলা, বন-বনানী ছায়া সুনিবিড় এই বিরাট এলাকা অঘোষিত পর্যটন স্পট হিসেবে যুগ যুগ ধরে মানুষকে দিয়ে আসছে বিনোদনের আস্বাদন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক,রেল,আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য এসি এবং নন এসি বাস ছাড়ে। শ্রেনিভেদে বাস গুলোর প্রতি সিটের ভাড়া ৫০০ থেকে ১২০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কোথায় খাবেন

চট্টগ্রাম শহরে ভালো মানের অনেক রেস্টুরেন্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট,গ্রিডি গাডস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা,গলফ গার্ডেন ,হান্ডির নাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রাম শহরে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। আপনি আপনার বাজেট অনুযায়ী কোন এক হোটেলে নিশ্চিন্তে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

বি: দ্র : ঘুরতে গিয়ে দয়া করে পরিবেশ নষ্ট করবেন না,চিপস এর প্যাকেট, পানির বোতল এবং অপচনশীল দ্রব্য নির্ধারিত স্হানে ফেলুন।। এই পৃথিবী, এই দেশ আমার, আপনার সুতরাং নিজের দেশ এবং পৃথিবীকে সুন্দর রাখা এবং রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বও আমার এবং আপনার ।।হ্যাপি_ট্রাভেলিং

ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ এবং ফলো করুন আমাদের পেইজ