লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান-

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় (Lawachara National Park) উদ্যান শুধু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে অন্যন্য তা নয়, বরং দেশে যেটুকু বন এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম। ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মেলে নানা বিরল প্রজাতির পশু পাখির। সারা দুনিয়ার পাখি প্রেমিকরা দূর দূরান্ত হতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পাখি দেখতে ছুটে আসেন। এ বনের মধ্যে এবং আশেপাশে খাসিয়া ও টিপরা আদিবাসীরা বাস করেন।

জুলভার্নের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে করা “ Around The World In 80 Days” ছবিটির একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিলো এই বনে। বন ঘেঁষে যে রেলপথ চলে গেছে  ঠিক সেখানে হয়েছিলো ছবির শুটিং। ছবিটির দৃশ্য ছিলো এরকম– ট্রেন ছুটছে  হঠাৎ চালক দেখলেন লাইনের সামনে একপাল হাতি আপন মনে  চড়ে বেড়াচ্ছে, ট্রেন থেমে যায়, ব্যাপারটা কি দেখতে কামরা থেকে নেমে আসেন নায়ক ডেভিড নিভেন। সামনের গ্রামে তখন হচ্ছিল সতীদাহ। নায়ক ছুটে গিয়ে মেয়েটিকে বাঁচান ,মেয়েটি হলো শারলি ম্যাক্লেইন। ছবির এই অংশ টুকু চিত্রায়িত হয়েছিলো লাউয়াছড়া রেললাইন এলাকায়।  

জীববৈচিত্র্যে

জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের সমৃদ্ধতম বনগুলোর একটি। আয়তনে ছোট হলেও এ বন দুর্লভ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। বনে প্রবেশের সাথে সাথেই নানা ধরনের বন্যপ্রাণী, পাখি এবং কীটপতঙ্গের শব্দ শোনা যায়। বনের মধ্যে প্রায় সারাক্ষণই সাইরেনের মত শব্দ হতে থাকে; প্রকৃতপক্ষে এটি এক ধরনের ঝিঁঝিঁ পোকা বা ক্রিকেটের শব্দ।

জাতীয় তথ্যকোষের হিসেবে এই উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। তারমধ্যে চাপালিশ, সেগুন, আগর, জারুল, আকাশমনি, লোহাকাঠ, আওয়াল সহ ১৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ। ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অন্যতম আকর্ষণ বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক। গভীর জঙ্গলের উঁচু ডালে এরা পরিবারসহ বসবাস করে।  বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত। বনের মধ্যে কিছু সময় কাটালেই উল্লুকের ডাকাডাকি কানে আসবে। উল্লুক ছাড়াও এখানে রয়েছে  মুখপোড়া হনুমান, চশমা বানর, লজ্জাবতী বানর, মেছো বাঘ, শিয়াল, বন্য কুকুর, এশীয় কালো ভাল্লুক, মায়া হরিণ সহ নানা প্রজাতির জীবজন্তু। মায়া হরিণ সাধারণত উচ্চতায় ২০‌-২২ ইঞ্চি। এদের বাদামী রঙের দেহ যা পিঠের দিকে ঘিয়ে গাঢ় রং ধারণ করে। এখানে পাওয়া যায় হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আছে অজগরসহ নানারকম সাপ। এছাড়া হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপও এ বনের উল্লেখযোগ্য সরীসৃপ। পাখিদের মধ্যে আছে— সবুজ ঘুঘু, বনমোরগ, হরিয়াল, তুর্কিবাজ, কালো মাথা টিয়া, লেজকাটা টিয়া, কালো ফর্কটেইল, ধুসর সাতশৈলী, কালো বাজ, হিরামন, কালো মাথা বুলবুল, ধুমকল, পেঁচা, ফিঙ্গে, সবুজ সুইচোরা, সাদা ভ্রু সাতভায়লা, ঈগল, হরিয়াল , হীরামন, সবুজ কোকিল, পাঙ্গা, কেশরাজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সাধারণ দর্শনীয় পাখির মধ্যে টিয়া, ছোট হরিয়াল, সবুজ সুইচোরা, তোতা, ছোট ফিঙ্গে, সবুজ কোকিল, পাঙ্গা, কেশরাজ প্রভৃতির দেখা মিলে। এছাড়া ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে সিতেশ রঞ্জন দেব তার চিড়িয়াখানা থেকে দুটি লক্ষ্মীপেঁচা ও একটি বনবিড়ালও অবমুক্ত করেন এ বনে।

উদ্ভিদ বৈচিত্র্য
লাউয়াছড়া বনাঞ্চলে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। লাউয়াছাড়া জাতীয় উদ্যানের ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গর্জন, সেগুন, গামার, জামরুল, চাপালিশ, মেনজিয়াম, নাগেশ্বর, শিমুল, লোহাকাঠ, জাম, ডুমুর, তুন, কড়ই, জগডুমুর, মুলি বাঁশ ইত্যাদি উলেস্নখযোগ্য। নানা প্রকারের দেশীয় গাছ দেখতে পাওয়া যায় এই উদ্যানে। এছাড়া প্রাকৃতিক পরিবেশে নানা ধরণের অর্কিড দেখতে হলেও এ বন এক অপূর্ব স্থান।

আদিবাসী নৃগোষ্ঠী
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশেই রয়েছে মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। খাসিয়ারা বন ও প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে গড়ে তুলেছে তাদের আবাস। তাদের আবাসভূমিগুলো একাধিক টিলা অতিক্রম করে উঠে গেছে ছোট ছোট টিলার উপরে। তাদের প্রধান পেশা পান চাষ।

লাউয়াছড়া ভ্রমণ

বাংলাদেশের সাতটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও দশটি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। চিরহরিৎ এ বনাঞ্চল বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের নিরাপদ আবাসস্থল। এছাড়াও নানান দুর্লভ জীবজন্তু,কীটপতঙ্গ আর গাছপালার জন্য এ অরণ্য বিখ্যাত। সুন্দরবনের পরপরই পর্যটকদের কাছে বেশি জনপ্রিয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। লাউয়াছড়া উদ্যানের পুরনো নাম পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এর ইতিহাস বেশ পুরানো। ব্রিটিশ সরকার ১৯২৫ সালের দিকে সর্বপ্রথম এ অঞ্চলে বৃক্ষায়ন শুরু করে। এসব গাছপালা বেড়েই লাউয়াছাড়া বনের সৃষ্টি বলে মনে করা হয়। প্রধান সড়ক ফেলে কিছুদূর চলার পরে ভেতর দিয়েই চলে গেছে ঢাকা-সিলেট রেল লাইন। এর পরেই মূলত জঙ্গলের শুরু। মূল সড়ক ছেড়ে জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করলে সাইরেনের মতো এক ধরণের শব্দ কানে আসে। এটি মূলত এ বনে থাকা ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। উঁচু নিচু টিলা জুড়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের গঠন। পাহাড়ি টিলার মাঝে মাঝে এ বনে চলার পথ। এখানকার মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি। বনের ভেতর দিয়েই বয়ে গেছে বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ছড়া। তবে এসব ছড়াগুলোর বেশিরভাগই পানিতে পূর্ণ থাকে বর্ষাকালে। সামান্য যে কটি ছড়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে সেসব এলাকায় বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা বেশি। উদ্যানে  বেড়ানোর তিনটি পথ আছে। একটি তিন ঘণ্টার, একটি এক ঘণ্টার এবং অন্যটি আধ ঘণ্টার পথ। উদ্যানের ভেতরে একটি খাসিয়া পল্লীও আছে।

আধ ঘণ্টার পথ

এ পথটির শুরু রেললাইন পেরিয়ে হাতের বাঁ দিক থেকে। পথের শুরুতে উঁচু উঁচু গাছগুলোতে দেখা মিলতে পারে কুলু বানরের। নানারকম গাছ-গাছালির ভেতর দিয়ে তৈরি করা এ হাঁটা পথে চলতে চলতে জঙ্গলের নির্জনতায় শিহরিত হবেন যে কেউ। এ ছাড়া এ পথের বড় বড় গাছের ডালে দেখা মিলবে বুনো অর্কিড। নির্দেশিত পথে হাতের বাঁয়ে বাঁয়ে চলতে চলতে এই পথ আবার শেষ হবে ঠিক শুরুর স্থানে।

এক ঘণ্টার পথ
এক ঘণ্টার ট্রেকিংয়ের শুরুতেই দেখবেন বিশাল গন্ধরুই গাছ, যার আরেক নাম কস্তুরী। এগাছ থেকে নাকি সুগন্ধি তৈরি হয়। এপথে দেখবেন ঝাওয়া, জগডুমুর, মুলীবাঁশ, কাঠালীচাঁপা, লেহা প্রভৃতি গাছ। আরও আছে প্রায় শতবর্ষী চাপলিশ আর গামারি গাছ। পথের পাশে থাকা ডুমুর গাছের ফল খেতে আসে উল্লুক, বানর ও হনুমান ছাড়াও বনের বাসিন্দা আরও অনেক বন্যপ্রাণী। মায়া হরিণ আর বন মোরগেরও দেখা মিলতে পারে।

দুই ঘণ্টার পথ

তিন ঘণ্টার হাঁটা পথটিও বেশ রোমাঞ্চকর। পথের বাঁয়ে খাসিয়াদের বসত মাগুরছড়া পুঞ্জি। এ পুঞ্জির বাসিন্দারা মূলত পান চাষ করে থাকেন। ১৯৫০ সালের দিকে বনবিভাগ এ পুঞ্জি তৈরি করে। পথে দেখা মিলবে বিশাল বাঁশ বাগান। বাগানে আছে কুলু বানর আর বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর। লজ্জাবতী বানর নিশাচর প্রাণী। এরা দিনের বেলায় বাঁশঝারে ঘুমিয়ে কাটায়। রয়েছে নানান প্রজাতির পাখি। এ পথের শেষের দিকে দেখা মিলতে পারে বনের অন্যতম আকর্ষণ উল্লুক পরিবার। এরা বনের সবচেয়ে উঁচু গাছগুলোতে দলবদ্ধভাবে বাস করে।

কখন যাবেন

প্রায় সারা বছরই ভ্রমণে যাওয়া যায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। তবে সাধারণ পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে মার্চ মাস ভালো সময়।

প্রবেশ মূল্য

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্ক ২০ টাকা, ছাত্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ১০ টাকা, বিদেশি নাগরিক পাঁচ মার্কিন ডলার কিংবা সমমূল্যের টাকা। এছাড়া গাড়ি, জীপ ও মাইক্রোবাস পার্কিং ২৫ টাকা।

কীভাবে যাবেন

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণে প্রথমে যেতে হবে চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১১৫ থেকে ৭৬৫ টাকা। রেলপথে সাধারণত ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে সরাসরি লাউয়াছাড়া উদ্যানে চলে যাওয়া যায়। অন্যথায় শ্রীমঙ্গল থেকে অটো রিকশা, জীপ কিংবা গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে।

কোথায় খাবেন

লাউয়াছড়া উদ্যান এর ভিতরে বা আশেপাশে খাওয়ার তেমন ব্যবস্থা নেই। তাই সাথে হাল্কা কিছু খাবার রাখতে পারেন। এছাড়া শ্রীমঙ্গল শহরে এসে খেতে হবে শ্রীমঙ্গলে নানা  ধরনের রেস্তোরাঁ আছে ।। রয়েছে সবার প্রিয় পানসী রেস্টোরেন্ট।।   

কোথায় থাকবেন

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পাশেই থাকার জন্য আছে লেমন গার্ডেন রিসোর্ট। এ রিসোর্টে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিভিন্ন মানের কক্ষ আছে। লাউয়াছড়ার কাছাকাছি আরও আছে ভানুগাছ সড়কে গ্রান্ড সুলতান গলফ রিসোর্ট। পাঁচ তারকা মানের এ রিসোর্ট ব্যয়বহুল। ভানুগাছ সড়কে আরও আছে— টি রিসোর্ট ।শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য হোটেল হল হবিগঞ্জ সড়কে রেইন ফরেস্ট রিসোর্ট ও টি টাউন রেস্ট হাউস, কলেজ রোডে হোটেল পস্নাজা ইত্যাদি। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের রাধানগরে চমৎকার দুটি রিসোর্ট হল নিসর্গ নিরব ইকো রিসোর্ট এবং নিসর্গ লিচিবাড়ি ইকো রির্সোট। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি আরেকটি ভালো থাকার জায়গা কমলগঞ্জের সুইজ ভ্যালী রিসোর্ট। প্রকৃতির মাঝে সুন্দর সাজানো এ রিসোর্টে সময় কাটাতে ভালো লাগবে। শমশেরনগর বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত এ রিসোর্ট। কটেজগুলোতে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় নানারকম কক্ষ আছে।

প্রায়োজনীয় তথ্য

জঙ্গল ভ্রমণে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক পরে জঙ্গল ভ্রমণে যাওয়া উচিৎ নয়। বনে হৈচৈ করলে বন্যপ্রাণীদের দেখা যাবেনা। তাই সর্বোচ্চ নিরবতা পালন করতে হবে। সঙ্গে নেওয়া পানির বোতল, চিপসের প্যাকেট বনের মধ্যে না ফেলে সঙ্গে এনে বাইরে ফেলা উচিৎ। ট্রেকিংয়ের সময় সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার পানি নিন। আইপ্যাকের প্রশিক্ষিত গাইড সঙ্গে নিয়ে ট্রেকিং এ যাওয়া উচিত। নয়তো পথ হারানোর ভয় আছে। বর্ষা মৌসুমে লাউয়াছড়া উদ্যানে জোঁকের উপদ্রব বাড়ে। এ সময় ভ্রমণে প্যান্ট মোজার মধ্যে গুজে নিন। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে জুতার উপরে গুল ছিটিয়ে নিতে পারেন।

সতর্কতা

  • জঙ্গলে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না
  • উচ্চস্বরে গান বাজনা করবেন না, কথা বলবেন না। জঙ্গলের পশুপাখিদের নিজস্ব জগৎ আছে, আপনার সরব উপস্থিতি দিয়ে নিশ্চয় তাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা ঠিক হবেনা
  • শীতকাল ছাড়া অন্য সময় গেলে খুব সাবধানে থাকবেন, এই জঙ্গলে প্রচণ্ড জোকের উতপাত, জুতা পরে জঙ্গলে ঢোকা শ্রেয়। ঘাড়, হাত, পা এ সতর্ক নজর রাখবেন, বিশেষ করে ছড়ার আশেপাশে জোক বেশি থাকে। জোক কামড়ালে টেনে ছাড়াতে যাবেন না, লবণ সাথে রাখবেন, লবণ ছিটিয়ে দিলেই কাজ হবে। লবণ না থাকলে সিগারেটের তামাকেও কাজ চালাতে পারেন
  • সাপ খেয়াল রাখবেন
  • জঙ্গলে দুর্বৃত্ত শ্রেণীর কিছু লোক থাকে এদের ডাকে সাড়া দেবেন না
  • জঙ্গলের ভেতরের রেল লাইন ধরে হাঁটাহাঁটি না করাই ভাল, কিছুক্ষণ পর পর ট্রেন যাতায়াত করে এই রেলপথ দিয়ে, অসতর্ক থাকলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

বি: দ্র : ঘুরতে গিয়ে দয়া করে পরিবেশ নষ্ট করবেন না,চিপস এর প্যাকেট, পানির বোতল এবং অপচনশীল দ্রব্য নির্ধারিত স্হানে ফেলুন।। এই পৃথিবী, এই দেশ আমার, আপনার সুতরাং নিজের দেশ এবং পৃথিবীকে সুন্দর রাখা এবং রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বও আমার এবং আপনার হ্যাপি_ট্রাভেলিং।।

ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেইসবুক গ্রুপ এবং ফলো করুন আমাদের পেইজ